পর্ব_১
আজ মহালয়া, পিতৃপক্ষের অবসান এবং মাতৃপক্ষের বা দেবীপক্ষের সূচনা। সকলকে মহালয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে আমি নিজের পরিচয়টা প্রথমে সেরে ফেলি। কারণ আগামী দিনগুলি নিজের বিভিন্ন ঘটনা এবং চরিত্রাবলীর পরিচয় দিতে থাকব খুব সৎ ভাবে। নারী রূপে ছলনার আশ্রয় নিয়ে নিজেকে যেভাবে দেবী বলে প্রতিপন্ন করবার চেষ্টা করি, তার সঙ্গে আমার ভাবনার, কথার এবং আচরণের কোন মিল না থাকলেও, দেবীপক্ষের সূচনাই আমার কাহিনী শুরু করবার জন্য বেশ উপযুক্ত শুভ দিন বলে মনে হল। লোকে তাহলে মিছে সন্দেহ করবে না আমার দেবীত্ব নিয়ে।
আমি এক শ্রেষ্ঠ ছলনাময়ী, পুরাণ কাহিনীতে নারীরূপ ধরে ছলনার আশ্রয় নেওয়া দেব-দেবী থেকে শুরু করে রাক্ষস রাক্ষসী পর্যন্ত সকলের আকর্ষণীয় কাহিনী তোমাদের সকলের জানা হলেও, আধুনিককালে আমার মত ছলনাময়ীর কাহিনী তোমাদের সকলকে নতুন করে অনেক কিছু ভাবতে শেখাবে, সে কথা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি। ছলনার প্রতিযোগিতা হলে পুরাণকাল থেকে আধুনিককাল পর্যন্ত প্রথম স্থান একমাত্র আমার জন্যই বরাদ্দ থাকবে। আমি সেই স্থান অন্য কাউকে কোনও ভাবে দিতে প্রস্তুত নই।
আমি আধুনিকা, তথাকথিত আধুনিকতার মোড়কে ঢাকা একটি মুখোশ, যার সাথে আসল আধুনিকতার কোন সম্পর্ক নেই, তাই বলে কি নিজেকে আধুনিক বলব না! তাই আমি নিজের আসল নাম পরিবর্তন করে নিয়েছি, প্রকৃত আধুনিকতার সঙ্গে আমার ভাবনার, কথার এবং আচরণের কোনও মিল না থাকলেও নিজেকে আধুনিকা বলতে বেশ গর্ব হয়। তাই সেই জায়গাটাও নিজের আয়ত্তে রাখতে চাই। তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে চাই এক নৈরাজ্যপূর্ণ আধুনিকতা।
আমি শিক্ষিতা, অনেকগুলো ডিগ্রি আছে, যদিও সেইসব ডিগ্রী আমাকে প্রকৃত শিক্ষিত করে তুলতে পারেনি, তাতে কি হয়েছে, লোকের কাছে নিজেকে বেশ শিক্ষিত শিক্ষিত দেখানোর মধ্যে একটা আলাদা সুখ আছে, সুযোগ বুঝে অবলা সাজি, আবার সুযোগ বুঝেই শিক্ষিত সাজি। সুযোগ বুঝে শক্তিশালী স্বনির্ভর হয়ে যাই, আবার সুযোগ বুঝে অবলা ভিখারী সাজতে আমার একটুও বিবেক দংশন হয় না, কারণ আমার কোনও বিবেক নেই। ঘনঘন মুখোশ বদলানোর মধ্যে একটা আলাদা সুখ আছে। সে যে কি আনন্দ, তা এত অল্প সময়ে বলে বোঝানো মুশকিল।
আমার মিথ্যাচারিতা করতে খুব ভালো লাগে, ওটাই আমার শ্রেষ্ঠ গুণ, শ্রেষ্ঠ সম্পদ, অত্যন্ত প্রিয় খেলা, প্রথমে একটা মিথ্যা বলি, সেটাকে ঢাকা দিতে আবার একটা মিথ্যা বলি, সেগুলোকে জাস্টিফাই করতে আরো অনেক অনেক মিথ্যা সাজাই। এভাবেই মিথ্যার বিশাল পাহাড় গড়ে তুলেছি। এত বড় মিথ্যার পাহাড়ে, ছোট্ট সব সত্যি ঢাকা ফেলে দিতে চেয়েছি, অনেকটাই ঢাকা ফেলে দিয়েছি, সামান্য একটু বাকি, সেটাও পুজোর পর করে ফেলব! কেউ কেউ আমাকে দ্বিচারি বলে, কিন্তু তারা এখনো বুঝেই উঠতে পারেনি, আসলে আমি দ্বিচারী নয়, বরং বহুচারী। হাহা। তারা খুব বোকা, তাই ভাবলাম, আমার এমন সুন্দর সুন্দর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো তোমাদের সকলকে শিখিয়ে দেব।
আরে, এত ছটফট করলে হবে না, ধীরে সুস্থে সব বলবো, তার জন্য চোখ রাখতে হবে পরবর্তী পর্বগুলিতে।
#ratanmondal #novel #sarcasm #sarcastic #life #series #serial #booklovers