ছেলেটি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ে। পাঁপড় বেলেই তখন সংসার চলে। পরেরদিন ভূগোল পরীক্ষা। হঠাৎ মায়ের খুব শরীর খারাপ করল। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর। বোন তখন খুব ছোট।
সেদিন পাঁপড় না বেলতে পারলে পাঁপড়ের মশলাটা খারাপ হয়ে যাবে। তেমনটা হলে পাঁপড় তো পাওয়াই যাবে না, উপরন্তু ঘটিবাটি বেচে দর মেটাতে হবে। এদিকে মায়ের সেবাও করতে হবে, প্রতিবন্ধী দিদি আর ছোট বোনের খেয়াল রাখতেও হবে মায়ের মত। এখন পড়াশুনা চুলোয় উঠল। কিছু শাকপাতা কুড়িয়ে সেদ্ধ করল, আর রেশনের চালের বদ গন্ধ ভাত । সময়ে সময়ে মায়ের কপালে জলপটি দেওয়া, আবার পাঁপড় বেলা। এভাবে যখন পাঁপড় বেলা শেষ হল তখন রাত দশটা।
ঘরে তেল নেই, উঠোনে বসে ভরা পূর্ণিমায় পাঁপড় বেলার জন্য আলো জোগাড় হল চাঁদের থেকে। পাঁপড় বেলা শেষ করে যখন উঠল তখন বুক ব্যথায় বিষিয়ে আছে। পরেরদিন পরিক্ষা, বইয়ের একটাও পাতা তখনও দেখা হয়নি। সকলকে খাইয়ে, শুইয়ে দিয়ে ছেলেটি বইটা হাতে নিয়ে এল উঠোনে। চাঁদের আলোয় শুরু করলেও বেশিক্ষণ চালাতে পারল না পড়াটা। চলে গেল পাশের মন্দিরে। সেখানে রাতের বেলা কেউ থাকে না, কিন্তু বাইরের আলোটা সারারাত জ্বলে। সেই সুযোগ তো হাত ছাড়া করা যায় না। ক্লান্তিতে ঘুমে চোখ ঢুলে পড়ছে, তার মধ্যেই পড়া শেষ করে পরের দিনের পরীক্ষা।
রেজাল্টের দিন সেও ভাবতে পারেনি, দুশোটা ছেলের মধ্যে সে পাবে সবচেয়ে বেশি নম্বর।